|
|
| ১ নং লাইন: |
১ নং লাইন: |
| সিলেট উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের একটি প্রধান শহর, একই সাথে এই শহরটি সিলেট বিভাগের বিভাগীয় শহর। এটি সিলেট জেলার অন্তর্গত। এটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, কুমিল্লা নগরের পর ৫ম বৃহত্তম শহর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকাই মূলত সিলেট শহর হিসেবে পরিচিত। সিলেট ২০০৯ সালের মার্চ মাসে একটি মেট্রোপলিটন শহরের মর্যাদা লাভ করেছে।[১] সুরমা নদীর তীরবর্তী এই শহরটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এ শহরটি দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত। এ শহরের বিশাল সংখ্যক লোক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষত ব্রিটেনে বসবাস করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে।[৩] সিলেটের পাথর, বালুর গুণগতমান দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এখানকার প্রাকৃতিক গ্যাস সারা দেশের সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করে থাকে।[৩]
| |
|
| |
|
| সিলেট তার চা বাগান এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত।[৪] প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চলে জনবসতি রয়েছে এবং ১৪ শতকে শহরটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুঘল, ব্রিটিশ এবং বাংলার নবাব সহ বিভিন্ন রাজবংশ দ্বারা শাসিত হয়েছে । এই শহরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন রয়েছে, যেমন বাংলাদেশের অন্যতম ইসলামী স্থান শাহ জালাল দরগা, যা প্রতি বছর হাজার হাজার তীর্থযাত্রীকে আকর্ষণ করে।[৫]
| |
|
| |
| ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর সিলেট বাংলাদেশের অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে একটি ।[৬] একটি প্রধান বাণিজ্যিক ও আর্থিক কেন্দ্র, সিলেট বেশ কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানি এবং শিল্পের আবাসস্থল, যার মধ্যে চা শিল্পও রয়েছে, যা শহরের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। সিলেটের রয়েছে বৈচিত্র্যময় পরিবহন অবকাঠামো, একটি আধুনিক বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং বাস টার্মিনাল যা এটিকে দেশের অন্যান্য অংশের সাথে সংযুক্ত করে।[৭] শহরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় , শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট ক্যাডেট কলেজ সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে ।
| |
|
| |
| নামকরণ
| |
| স্থানীয় নামটি সাধারণত শহরের সংস্কৃত নাম শ্রীহট্ট থেকে উদ্ভূত বলে ধারণা করা হয়।[৮] এই নামের পেছনে হিন্দু পৌরাণিক আখ্যানের প্রভাবও রয়েছে বলে মনে করা হয়। শ্রীহট্ট নামের উৎস হিসেবে বিবেচিত শ্রীহট্টনাথ ছিলেন নাথ রাজবংশের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা। দ্বাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে তিনি সুরমা ও বরাক উপত্যকায় নাথ সম্প্রদায়ের প্রাথমিক বসতি স্থাপন করেন, শ্রীহট্ট জনপদের ভিত্তি গড়ে তোলেন এবং অঞ্চলজুড়ে শ্রীহট্টনাথের মূর্তি স্থাপন করেন।[৯] পরবর্তীকালে সিলেট অঞ্চলের হিন্দু রাজারা—বিশেষত গৌর গোবিন্দ—দেবীপুরাণ ও তাম্রশাসনের শিলালিপিতে বর্ণিত হটকেশ্বর বা হটনাথ দেবতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যাহত রাখেন, যা এই অঞ্চলে নামটির ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত বহন করে।[১০]
| |
|
| |
| ইতিহাস
| |
| মূল নিবন্ধসমূহ: সিলেটের ইতিহাস ও মুঘলদের সিলেট বিজয়
| |
| ইতিহাসবিদেরা বলেন, বহুযুগ ধরে সিলেট একটি বাণিজ্যিক শহর হিসেবে প্রচলিত আছে। ধারণা করা হয়ে থাকে যে, "হরিকেল রাজত্বের" মূল ভূখণ্ড ছিল এই সিলেট। চতুর্দশ শতকের দিকে এই অঞ্চলে ইসলামি প্রভাব দেখা যায় সুফী দার্শনিকদের আগমনের মাধ্যমে। ১৩০৩ সালে কালৈতিহাসিক মুসলিম ধর্মপ্রচারক হযরত শাহ জালাল রহ.-এর আবির্ভাব ঘটে এই সময়ে। তিনি মক্কা থেকে দিল্লি ও ঢাকা হয়ে এই এলাকায় আসেন। তার আধ্যাত্মিক ক্ষমতার প্রভাবে ও তার অনুসারী ৩৬০ জনের মাধ্যমে আরও অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তা দেশের অন্যত্র ও ছড়িয়ে পড়ে। তার দরগাহ সিলেটের একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।একসময় তার নামানুসারে এ অঞ্চল জালালাবাদ নামে পরিচিত হয়। হযরত শাহ্ পরান ও শাহ্ কামাল কাহাফানের সান্নিধ্যে এসেও অনেকে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর শাসনামলে ইন্ডিয়ান লস্করেরা এই এলাকায় তাঁবেদারি শাসন চালাতো।[১১] ১৭৭৮ সালে রবার্ট লিন্ডসে কে সিলেটের দায়ভার দেয়া হয়। তবে তখনকার স্থানীয় সিলেটিরা তাকে ভালোভাবে নেয় নি। ১৭৮১ সালে এই এলাকায় একটি বড় ধরনের বন্যা হয়েছিল। এতে অসংখ্য ফসল ও পাখি মারা যায়। স্থানীয়রা এজন্য ব্রিটিশদের দায়ী করে। এই আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন সৈয়দ হাদী ও সৈয়দ মাহাদী (পীরজাদা নামে পরিচিত)। লিন্ডসের সাথে তখন তাদের যুদ্ধ সংঘটিত হয় যাতে প্রচুর ভারতীয় তস্কর অংশ নেয়। ফলশ্রুতিতে অনেকেই সিলেট ছেড়ে লন্ডনে চলে যায় ও বসতি গড়ে তোলে। ব্রিটিশ শাসনের সময় আসাম ও সিলেট একত্রিত হয়ে আসামের অংশ ছিল। পরবর্তীতে ভারত ও পাকিস্তান আলাদা দেশ গঠনের সময় আসাম ও সিলেট আলাদা হয়ে যায়। ১৯৭১-এর যুদ্ধে জয়লাভের পর এটি পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ-এর ভূখণ্ডে পড়ে।[১২]
| |
|
| |
| ভূগোল
| |
| সিলেট বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার সিলেট সদর উপজেলায়, ২৪.৮৯১৭° উত্তর ৯১.৮৮৩৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। কোপেন জলবায়ু শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী সিলেটে সাধারণত বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বর্ষা জলবায়ু (কোপ্পেন এএম) বিরাজমান, যা এর উচ্চতার কারণে আর্দ্র উষ্ণমঞ্চলীয় জলবায়ু (সিডব্লিউএ) এর সাথে সীমাবদ্ধ। এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এখানে বর্ষাকাল, যার ফলে প্রায় প্রতিদিন প্রচণ্ড ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝড়বাতাস সহ আবহাওয়া গরম এবং আর্দ্র থাকে, যদিও নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বল্প শুকনো মৌসুম খুব উষ্ণ এবং আকাশ মোটামুটি পরিষ্কার থাকে। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের ৪,২০০ মিলিমিটার (১৭০ ইঞ্চি) এবং ৮০% বৃষ্টিপাত হয় মে থেকে সেপ্টেম্বর মাসে।[১৩]
| |
|
| |
| জনসংখ্যা
| |
| ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী সিলেট মহানগরের জনসংখ্যা ছিল ৫,৩১,৬৬৩ জন[২] (সিটি কর্পোরেশন এলাকার জনসংখ্যা ছিল ৪,৭৯,৮৩৭ জন), যা জাতীয় মোট জনসংখ্যার ২.২৫%। এর মধ্যে ২,৮৫,৮৯২ জন পুরুষ এবং ২,৪৫,৮২১ জন নারী। নারী ও পুরুষের লিঙ্গ অনুপাত ১০০:১১৬, যেখানে জাতীয় লিঙ্গ অনুপাত হল ১০০.৩ এবং জাতীয় শহুরে লিঙ্গ অনুপাত হল ১০৯.৩।[১৫] ২০১১ সালে তথ্য অনুযায়ী স্বাক্ষরতার হার ৬৭.৬%, যেখানে জাতীয় শহুরে স্বাক্ষরতার হার ৬৬.৪% এর চেয়ে বেশি। সিলেট শহরে ১০৬,১০৭টি খানা বা পরিবার রয়েছে।[২]
| |
|
| |
| শহরের জনংখ্যার ৮৭.৭৭% মুসলমান, ১২.৬৩% হিন্দু, ০.০৯% খ্রিস্টান, ০.০৬% বৌদ্ধ এবং ০.০৭% অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। এখানে নাস্তিক বা ধর্মহীনদের কোন পরিসংখ্যানগত তথ্য নেই।
| |
|
| |
| স্থানীয় শাসনব্যবস্থা ও রাজনীতি
| |
|
| |
| সিলেট মহানগরী সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক শাসিত হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন ২৭টি ওয়ার্ড ও ২৩৬টি মহল্লায় বিভক্ত। সিটি কর্পোরশেন এলাকার আয়তন ২৬·৫০ বর্গ কিলোমিটার। ২০০১ সালের ৯ এপ্রিল সিলেট শহরকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অধীন করা হয়। সিলেট শহর হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের বিভাগীয় শহর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন মূলত সিলেট শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা নির্মাণ, ট্রাফিক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধনসহ আরও অনেক কাজে সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পাদন করে। কর্পোরেশনের মেয়র ও ২২ জন কমিশনার পুরো শহরের সব ধরনের উন্নয়নের কাজ করে থাকেন।[১১]
| |
|
| |
|
| |
| শিক্ষা
| |
|
| |
| শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেটের রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। এ শহরে সাক্ষরতার হার প্রায় ৬৭.৬%। এখানে রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যমণ্ডিত মুরারিচাঁদ কলেজ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রদানের জন্য সরকারি বেসরকারি অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ অন্যতম। উচ্চ মাধ্যমিক এবং অনার্স স্তরের জন্য এখানে রয়েছে সিলেট সরকারি কলেজ, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ, সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ , সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা সহ আরও অনেক কলেজ এবং মাদ্রাসা। উচ্চতর শিক্ষার জন্য রয়েছে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ তাছাড়াও রয়েছে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ, জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ শহ আরো অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
| |
|
| |
| যাতায়াত
| |
|
| |
| ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন সিলেটে যাওয়া আসা করে ৩টা (পারাবত, জয়ন্তিকা, উপবন, কালনী) ট্রেন। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন যাওয়া আসা করে ২টি (পাহাড়িকা ও উদয়ন) ট্রেন। ট্রেনের ভাড়া প্রকারভেদে ২৬৫ টাকা থেকে ২৬০০ টাকা পর্যন্ত। আর সময় লাগবে ৭-৮ ঘণ্টা। এছাড়া বাসেও যাওয়া যাবে। এর মধ্যে শ্যামলি, হানিফ, ইউনিক, এনা, গ্রীন লাইন উল্লেখযোগ্য। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের তৃতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রতিদিন ঢাকা- সিলেট রুটে বিমান, ইউ-এস বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে। তাছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সিলেট থেকে প্রতিদিন যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। ফ্লাই দুবাই প্রতিদিন (দুবাই-সিলেট-দুবাই) রুটে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। টিএসি অ্যাভিয়েশন (TAC Aviation) এই বিমানবন্দর থেকে বিমান চালানো প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই এয়ারপোর্ট থেকে সেনা প্যারাট্রুপার প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে।
| |
|
| |
| সিলেটসংক্ষিপ্ত ইউআরএল
| |
|
| |
| নিবন্ধ
| |
| আলোচনা
| |
| পড়ুন
| |
| সম্পাদনা
| |
| ইতিহাস দেখুন
| |
|
| |
| অবয়ব লুকান
| |
| অক্ষর
| |
|
| |
| ছোট
| |
|
| |
| মানক
| |
|
| |
| বড়
| |
| প্রস্থ
| |
|
| |
| মানক
| |
|
| |
| চওড়া
| |
| রং (বিটা)
| |
|
| |
| স্বয়ংক্রিয়
| |
|
| |
| উজ্জ্বল
| |
|
| |
| আঁধার
| |
| স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৪′ উত্তর ৯১°৫২′ পূর্ব
| |
| পরীক্ষিত
| |
| উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
| |
| এই নিবন্ধটি সিলেট শহর সম্পর্কে। বিভাগের জন্য সিলেট বিভাগ দেখুন। জেলার জন্য সিলেট জেলা দেখুন। উপজেলার জন্য সিলেট সদর উপজেলা দেখুন।
| |
| সিলেট
| |
| মহানগরী
| |
|
| |
|
| |
|
| |
| Shah Jalal
| |
|
| |
| উপর থেকে ঘড়ির কাঁটার দিকে: বন্দর বাজার, সিলেট, সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চা বাগান, শাহজালালের মাজার, সিটি পয়েন্ট।
| |
| সিলেট সিলেট বিভাগ-এ অবস্থিতসিলেটসিলেট
| |
| সিলেট বিভাগের মানচিত্রে দেখুন
| |
| বাংলাদেশের মানচিত্রে দেখুন
| |
| এশিয়ার মানচিত্রে দেখুন
| |
| পৃথিবীর মানচিত্রে দেখুন
| |
| সব দেখান
| |
| বাংলাদেশের সিলেটর অবস্থান
| |
| স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৪′ উত্তর ৯১°৫২′ পূর্ব
| |
| দেশ বাংলাদেশ
| |
| বিভাগ সিলেট বিভাগ
| |
| জেলা সিলেট জেলা
| |
| মহানগরী ৩১ মার্চ ২০০৯[১]
| |
| সিটি কর্পোরেশন ৯ এপ্রিল ২০০১
| |
| পৌর শহর ১৮৬৭
| |
| সরকার
| |
| • ধরন মেয়র - কাউন্সিলর
| |
| • শাসক সিলেট সিটি কর্পোরেশন
| |
| • মেয়র প্রশাসক দায়িত্ব প্রাপ্ত
| |
| আয়তন
| |
| • মোট ৬৮.৮৫ বর্গকিমি (২৬.৫৮ বর্গমাইল)
| |
| জনসংখ্যা (২০১১)[২]
| |
| • মোট ৫,৩১,৬৬৩
| |
| সময় অঞ্চল বামাস (ইউটিসি+০৬:০০)
| |
| পোস্ট কোড ৩১০০
| |
| ওয়েবসাইট www.scc.gov.bd
| |
|
| |
| সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মহল্লা জিওকোড ম্যাপ
| |
| সিলেট উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের একটি প্রধান শহর, একই সাথে এই শহরটি সিলেট বিভাগের বিভাগীয় শহর। এটি সিলেট জেলার অন্তর্গত। এটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, কুমিল্লা নগরের পর ৫ম বৃহত্তম শহর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকাই মূলত সিলেট শহর হিসেবে পরিচিত। সিলেট ২০০৯ সালের মার্চ মাসে একটি মেট্রোপলিটন শহরের মর্যাদা লাভ করেছে।[১] সুরমা নদীর তীরবর্তী এই শহরটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এ শহরটি দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত। এ শহরের বিশাল সংখ্যক লোক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষত ব্রিটেনে বসবাস করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে।[৩] সিলেটের পাথর, বালুর গুণগতমান দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এখানকার প্রাকৃতিক গ্যাস সারা দেশের সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করে থাকে।[৩]
| |
|
| |
| সিলেট তার চা বাগান এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত।[৪] প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চলে জনবসতি রয়েছে এবং ১৪ শতকে শহরটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুঘল, ব্রিটিশ এবং বাংলার নবাব সহ বিভিন্ন রাজবংশ দ্বারা শাসিত হয়েছে । এই শহরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন রয়েছে, যেমন বাংলাদেশের অন্যতম ইসলামী স্থান শাহ জালাল দরগা, যা প্রতি বছর হাজার হাজার তীর্থযাত্রীকে আকর্ষণ করে।[৫]
| |
|
| |
| ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর সিলেট বাংলাদেশের অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে একটি ।[৬] একটি প্রধান বাণিজ্যিক ও আর্থিক কেন্দ্র, সিলেট বেশ কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানি এবং শিল্পের আবাসস্থল, যার মধ্যে চা শিল্পও রয়েছে, যা শহরের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। সিলেটের রয়েছে বৈচিত্র্যময় পরিবহন অবকাঠামো, একটি আধুনিক বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং বাস টার্মিনাল যা এটিকে দেশের অন্যান্য অংশের সাথে সংযুক্ত করে।[৭] শহরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় , শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট ক্যাডেট কলেজ সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে ।
| |
|
| |
| নামকরণ
| |
| স্থানীয় নামটি সাধারণত শহরের সংস্কৃত নাম শ্রীহট্ট থেকে উদ্ভূত বলে ধারণা করা হয়।[৮] এই নামের পেছনে হিন্দু পৌরাণিক আখ্যানের প্রভাবও রয়েছে বলে মনে করা হয়। শ্রীহট্ট নামের উৎস হিসেবে বিবেচিত শ্রীহট্টনাথ ছিলেন নাথ রাজবংশের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা। দ্বাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে তিনি সুরমা ও বরাক উপত্যকায় নাথ সম্প্রদায়ের প্রাথমিক বসতি স্থাপন করেন, শ্রীহট্ট জনপদের ভিত্তি গড়ে তোলেন এবং অঞ্চলজুড়ে শ্রীহট্টনাথের মূর্তি স্থাপন করেন।[৯] পরবর্তীকালে সিলেট অঞ্চলের হিন্দু রাজারা—বিশেষত গৌর গোবিন্দ—দেবীপুরাণ ও তাম্রশাসনের শিলালিপিতে বর্ণিত হটকেশ্বর বা হটনাথ দেবতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যাহত রাখেন, যা এই অঞ্চলে নামটির ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত বহন করে।[১০]
| |
|
| |
| ইতিহাস
| |
| মূল নিবন্ধসমূহ: সিলেটের ইতিহাস ও মুঘলদের সিলেট বিজয়
| |
| ইতিহাসবিদেরা বলেন, বহুযুগ ধরে সিলেট একটি বাণিজ্যিক শহর হিসেবে প্রচলিত আছে। ধারণা করা হয়ে থাকে যে, "হরিকেল রাজত্বের" মূল ভূখণ্ড ছিল এই সিলেট। চতুর্দশ শতকের দিকে এই অঞ্চলে ইসলামি প্রভাব দেখা যায় সুফী দার্শনিকদের আগমনের মাধ্যমে। ১৩০৩ সালে কালৈতিহাসিক মুসলিম ধর্মপ্রচারক হযরত শাহ জালাল রহ.-এর আবির্ভাব ঘটে এই সময়ে। তিনি মক্কা থেকে দিল্লি ও ঢাকা হয়ে এই এলাকায় আসেন। তার আধ্যাত্মিক ক্ষমতার প্রভাবে ও তার অনুসারী ৩৬০ জনের মাধ্যমে আরও অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তা দেশের অন্যত্র ও ছড়িয়ে পড়ে। তার দরগাহ সিলেটের একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।একসময় তার নামানুসারে এ অঞ্চল জালালাবাদ নামে পরিচিত হয়। হযরত শাহ্ পরান ও শাহ্ কামাল কাহাফানের সান্নিধ্যে এসেও অনেকে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর শাসনামলে ইন্ডিয়ান লস্করেরা এই এলাকায় তাঁবেদারি শাসন চালাতো।[১১] ১৭৭৮ সালে রবার্ট লিন্ডসে কে সিলেটের দায়ভার দেয়া হয়। তবে তখনকার স্থানীয় সিলেটিরা তাকে ভালোভাবে নেয় নি। ১৭৮১ সালে এই এলাকায় একটি বড় ধরনের বন্যা হয়েছিল। এতে অসংখ্য ফসল ও পাখি মারা যায়। স্থানীয়রা এজন্য ব্রিটিশদের দায়ী করে। এই আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন সৈয়দ হাদী ও সৈয়দ মাহাদী (পীরজাদা নামে পরিচিত)। লিন্ডসের সাথে তখন তাদের যুদ্ধ সংঘটিত হয় যাতে প্রচুর ভারতীয় তস্কর অংশ নেয়। ফলশ্রুতিতে অনেকেই সিলেট ছেড়ে লন্ডনে চলে যায় ও বসতি গড়ে তোলে। ব্রিটিশ শাসনের সময় আসাম ও সিলেট একত্রিত হয়ে আসামের অংশ ছিল। পরবর্তীতে ভারত ও পাকিস্তান আলাদা দেশ গঠনের সময় আসাম ও সিলেট আলাদা হয়ে যায়। ১৯৭১-এর যুদ্ধে জয়লাভের পর এটি পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ-এর ভূখণ্ডে পড়ে।[১২]
| |
|
| |
| ভূগোল
| |
| সিলেট বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার সিলেট সদর উপজেলায়, ২৪.৮৯১৭° উত্তর ৯১.৮৮৩৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। কোপেন জলবায়ু শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী সিলেটে সাধারণত বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বর্ষা জলবায়ু (কোপ্পেন এএম) বিরাজমান, যা এর উচ্চতার কারণে আর্দ্র উষ্ণমঞ্চলীয় জলবায়ু (সিডব্লিউএ) এর সাথে সীমাবদ্ধ। এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এখানে বর্ষাকাল, যার ফলে প্রায় প্রতিদিন প্রচণ্ড ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝড়বাতাস সহ আবহাওয়া গরম এবং আর্দ্র থাকে, যদিও নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বল্প শুকনো মৌসুম খুব উষ্ণ এবং আকাশ মোটামুটি পরিষ্কার থাকে। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের ৪,২০০ মিলিমিটার (১৭০ ইঞ্চি) এবং ৮০% বৃষ্টিপাত হয় মে থেকে সেপ্টেম্বর মাসে।[১৩]
| |
|
| |
| সিলেট, বাংলাদেশ-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য
| |
| মাস জানু ফেব্রু মার্চ এপ্রিল মে জুন জুলাই আগস্ট সেপ্টে অক্টো নভে ডিসে বছর
| |
| সর্বোচ্চ গড় °সে (°ফা) ২৫.২
| |
| (৭৭.৪) ২৭.১
| |
| (৮০.৮) ৩০.৪
| |
| (৮৬.৭) ৩০.৮
| |
| (৮৭.৪) ৩০.৮
| |
| (৮৭.৪) ৩০.৯
| |
| (৮৭.৬) ৩০.৯
| |
| (৮৭.৬) ৩১.৬
| |
| (৮৮.৯) ৩১.২
| |
| (৮৮.২) ৩০.৯
| |
| (৮৭.৬) ২৯.২
| |
| (৮৪.৬) ২৬.৩
| |
| (৭৯.৩) ২৯.৬
| |
| (৮৫.৩)
| |
| সর্বনিম্ন গড় °সে (°ফা) ১২.৯
| |
| (৫৫.২) ১৪.২
| |
| (৫৭.৬) ১৮.১
| |
| (৬৪.৬) ২০.৮
| |
| (৬৯.৪) ২২.৬
| |
| (৭২.৭) ২৪.৪
| |
| (৭৫.৯) ২৪.৯
| |
| (৭৬.৮) ২৫.০
| |
| (৭৭.০) ২৪.৩
| |
| (৭৫.৭) ২২.৫
| |
| (৭২.৫) ১৮.৪
| |
| (৬৫.১) ১৪.০
| |
| (৫৭.২) ২০.২
| |
| (৬৮.৪)
| |
| বৃষ্টিপাতের গড় মিমি (ইঞ্চি) ৮
| |
| (০.৩) ৩১
| |
| (১.২) ১৪৬
| |
| (৫.৭) ৩৭২
| |
| (১৪.৬) ৫৬৯
| |
| (২২.৪) ৭৯৬
| |
| (৩১.৩) ৮৩৪
| |
| (৩২.৮) ৬২১
| |
| (২৪.৪) ৫৪৮
| |
| (২১.৬) ২৩২
| |
| (৯.১) ৩০
| |
| (১.২) ১৩
| |
| (০.৫) ৪,২০০
| |
| (১৬৫.১)
| |
| উৎস: WMO[১৪]
| |
| জনসংখ্যা
| |
| ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী সিলেট মহানগরের জনসংখ্যা ছিল ৫,৩১,৬৬৩ জন[২] (সিটি কর্পোরেশন এলাকার জনসংখ্যা ছিল ৪,৭৯,৮৩৭ জন), যা জাতীয় মোট জনসংখ্যার ২.২৫%। এর মধ্যে ২,৮৫,৮৯২ জন পুরুষ এবং ২,৪৫,৮২১ জন নারী। নারী ও পুরুষের লিঙ্গ অনুপাত ১০০:১১৬, যেখানে জাতীয় লিঙ্গ অনুপাত হল ১০০.৩ এবং জাতীয় শহুরে লিঙ্গ অনুপাত হল ১০৯.৩।[১৫] ২০১১ সালে তথ্য অনুযায়ী স্বাক্ষরতার হার ৬৭.৬%, যেখানে জাতীয় শহুরে স্বাক্ষরতার হার ৬৬.৪% এর চেয়ে বেশি। সিলেট শহরে ১০৬,১০৭টি খানা বা পরিবার রয়েছে।[২]
| |
|
| |
| শহরের জনংখ্যার ৮৭.৭৭% মুসলমান, ১২.৬৩% হিন্দু, ০.০৯% খ্রিস্টান, ০.০৬% বৌদ্ধ এবং ০.০৭% অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। এখানে নাস্তিক বা ধর্মহীনদের কোন পরিসংখ্যানগত তথ্য নেই।
| |
|
| |
| স্থানীয় শাসনব্যবস্থা ও রাজনীতি
| |
| মূল নিবন্ধ: সিলেট সিটি কর্পোরেশন
| |
| সিলেট মহানগরী সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক শাসিত হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন ২৭টি ওয়ার্ড ও ২৩৬টি মহল্লায় বিভক্ত। সিটি কর্পোরশেন এলাকার আয়তন ২৬·৫০ বর্গ কিলোমিটার। ২০০১ সালের ৯ এপ্রিল সিলেট শহরকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অধীন করা হয়। সিলেট শহর হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের বিভাগীয় শহর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন মূলত সিলেট শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা নির্মাণ, ট্রাফিক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধনসহ আরও অনেক কাজে সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পাদন করে। কর্পোরেশনের মেয়র ও ২২ জন কমিশনার পুরো শহরের সব ধরনের উন্নয়নের কাজ করে থাকেন।[১১]
| |
|
| |
| শিক্ষা
| |
| শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেটের রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। এ শহরে সাক্ষরতার হার প্রায় ৬৭.৬%। এখানে রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যমণ্ডিত মুরারিচাঁদ কলেজ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রদানের জন্য সরকারি বেসরকারি অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ অন্যতম। উচ্চ মাধ্যমিক এবং অনার্স স্তরের জন্য এখানে রয়েছে সিলেট সরকারি কলেজ, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ, সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ , সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা সহ আরও অনেক কলেজ এবং মাদ্রাসা। উচ্চতর শিক্ষার জন্য রয়েছে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ তাছাড়াও রয়েছে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ, জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ শহ আরো অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
| |
|
| |
| যাতায়াত
| |
| ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন সিলেটে যাওয়া আসা করে ৩টা (পারাবত, জয়ন্তিকা, উপবন, কালনী) ট্রেন। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন যাওয়া আসা করে ২টি (পাহাড়িকা ও উদয়ন) ট্রেন। ট্রেনের ভাড়া প্রকারভেদে ২৬৫ টাকা থেকে ২৬০০ টাকা পর্যন্ত। আর সময় লাগবে ৭-৮ ঘণ্টা। এছাড়া বাসেও যাওয়া যাবে। এর মধ্যে শ্যামলি, হানিফ, ইউনিক, এনা, গ্রীন লাইন উল্লেখযোগ্য। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের তৃতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রতিদিন ঢাকা- সিলেট রুটে বিমান, ইউ-এস বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে। তাছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সিলেট থেকে প্রতিদিন যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। ফ্লাই দুবাই প্রতিদিন (দুবাই-সিলেট-দুবাই) রুটে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। টিএসি অ্যাভিয়েশন (TAC Aviation) এই বিমানবন্দর থেকে বিমান চালানো প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই এয়ারপোর্ট থেকে সেনা প্যারাট্রুপার প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে।
| |
|
| |
| খেলাধুলা
| |
|
| |
| বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানের মতো সিলেটে বিভিন্ন জনপ্রিয় খেলা যেমন ফুটবল, ক্রিকেট, বিলিয়ার্ড, টেবিল টেনিস, অ্যাথলেটিক্স, সকার, দাবা, বাস্কেটবল, হকি, কাবাডি, ভলিবল ইত্যাদি প্রচলিত রয়েছে। বর্তমানে দেশী খেলার চেয়ে ক্রিকেট খেলা অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি সিলেট টাইটান্স এখানে অবস্থিত, যা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে (এম এ জি ওসমানী স্টেডিয়াম) তাদের ঘরের মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে। এটি ২০০৭ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং এর ধারণ ক্ষমতা ১৮,৫০০। ২০১৪ সালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি নতুন করে সংস্কার করা হয়েছিল বিশেষত ২০১৪ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি আয়োজন করার জন্য। এটি শহরের বাইরে সবুজ চা বাগানের কাছাকাছি অবস্থিত। সিলেট বিভাগ ক্রিকেট দল জাতীয় ক্রিকেট লিগে বিজয়ী হতে না পারলেও ২০০১-০২ সেশনে জাতীয় ক্রিকেট লিগ ওয়ানডেতে শিরোপা জিতেছিল। সিলেটের উল্লেখযোগ্য ক্রিকেটার, যারা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজিন সালেহ,আবু জাহেদ রাহি, এনামুল হক জুনিয়র, তাপস বৈশ্য, এবং অলোক কাপালি। সিলেটের দাবা খেলোয়াড় রানী হামিদ ১৯৮৫ সালে ফিদে আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার খেতাব পান।
| |
|
| |
| সিলেট জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম হচ্ছে শহরের দ্বিতীয় প্রধান স্টেডিয়াম। ঘরোয়া টুর্নামেন্ট এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।[১]
| |