বিষয়বস্তুতে চলুন

সুন্দরবন

মুক্তপিডিয়া — মুক্ত জ্ঞান, সবার জন্য
Md Abu Sayeed (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০২:০২, ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (নিবন্ধে সংযোগ প্রদান করা)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণাংশে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন। এটি গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী ব্যবস্থার বদ্বীপ অঞ্চলে বিস্তৃত। জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত গুরুত্বের জন্য সুন্দরবন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের সুন্দরবনকে এবং ১৯৮৭ সালে ভারতের সুন্দরবন জাতীয় উদ্যানকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

'সুন্দরবন' নামের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে। একটি প্রচলিত মত অনুযায়ী, বনাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে জন্মানো সুন্দরী গাছের নাম থেকেই 'সুন্দরবন' নামটির উৎপত্তি হয়েছে। অন্য একটি মত অনুসারে, 'সমুদ্রবন' শব্দটি ক্রমান্বয়ে রূপান্তরিত হয়ে 'সুন্দরবন' হয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থান

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে এবং অবশিষ্ট অংশ ভারতে অবস্থিত। বাংলাদেশের অংশ খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে বিস্তৃত। বনাঞ্চল অসংখ্য নদী, খাল ও জলপথে বিভক্ত।

জীববৈচিত্র্য

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

সুন্দরবন জীববৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে শতাধিক প্রজাতির মাছ, অসংখ্য পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য প্রাণীর মধ্যে রয়েছে-

  • রয়েল বেঙ্গল টাইগার
  • চিত্রা হরিণ
  • লোনা পানির কুমির
  • বানর
  • শুশুক
  • অজগর
  • বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখি

উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে-

  • সুন্দরী
  • গেওয়া
  • গরান
  • গোলপাতা
  • কেওড়া
  • পশুর

সুন্দরবনের জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র। বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাত হয় এবং জোয়ার-ভাটার প্রভাব বনাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

সুন্দরবন স্থানীয় জনগণের জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বন থেকে মধু, মোম, গোলপাতা, মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য বনজ সম্পদ সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া পর্যটন শিল্পেও সুন্দরবনের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

পরিবেশগত গুরুত্ব

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও উপকূলীয় ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব কমাতে বনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি এটি বিপুল পরিমাণ কার্বন শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমনে সহায়তা করে।

সুন্দরবন বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট হুমকির সম্মুখীন। এর মধ্যে রয়েছে-

  • জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  • ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস
  • নদীভাঙন
  • অবৈধ বনসম্পদ আহরণ
  • দূষণ
  • বন্যপ্রাণী শিকার

বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশেই সুন্দরবন সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন আইন ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে বন সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও সুন্দরবনের সংরক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করে।

  • সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ
  • সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ
  • বাংলাদেশ বন বিভাগ